মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফরিদপুরে শ্রী নৃসিংহ সেবা সংঘের পরিচালিত ১ম গীতা স্কুল শ্রী নৃসিংহ সনাতনী বিদ্যাপীঠের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে“হাটহাজারী সনাতনী ক্রাশ এন্ড কনফেশন কমিউনিটি” গ্রুপের প্রথম পুণর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ যশোর সরকারি সিটি কলেজ শাখার নতুন কমিটি ঘোষনা সড়কে গাছ ফেলে সাংবাদিককে হত্যা, চার দিনেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ ‘উস্কানিমূলক’ পোস্ট না করার শর্তে জামিন পেয়েছে ঝুমন দাস দেবীগঞ্জে ঐতিহাসিক মন্দিরে চুরি ভারতে যোগীরাজ্যে অন্যরূপে ‘ABCD’, এ-তে অর্জুন, বি-তে বলরাম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে,সুজন মহন্তের ৭ বছর কারাদণ্ড চট্টগ্রামের রাউজানে নানান মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫দিন ব্যাপী রাস উৎসব ঝিওরী সুভাষ দত্তের বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার দিনব্যাপী শ্রী শ্রী সার্বজনীন জগদ্ধাত্রী পূজা

আমরা মূর্তি পূজা কেন করি- রাস্কীন চৌধুরী

Spread the love

একদিন এক রাজা স্বামী বিবেকানন্দকে জিজ্ঞেস করলেন আপনারা কেন মূর্তি পূজা করেন ? আমি বুঝি না পুতুলের মধ্যে আপনারা কি এমন দেখেন যে পূজা করতে হবে?

স্বামী বিবেকানন্দ তখন রাজার দেওয়াল থেকে তার স্বর্গীয় পিতার ছবি নিয়ে এসে রাজাকে বললেন এই ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে। তখন রাজা রেগে গিয়ে বললেন এটা আমার বাবার ছবি। আমি কিভাবে এই ছবির উপর থুথু নিক্ষেপ করবো?

তখন স্বামীজী বললেন কেন পারবেন না,এটা তো নিছকই একটা কাগজের তৈরি ছবি।

স্বামী বিবেকানন্দ তখন বললেন আপনি আপনার স্বর্গীয় পিতার ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে পারেন নি। কারণ আপনি বিশ্বাস করেন এই ছবির মধ্যে আপনার পিতা অবস্থান করেন । আপনি তাকে ভালোবাসেন আর সম্মান প্রদর্শন করেন তাই তার ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে পারেন নি।

ঠিক তেমনি আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বর মূর্তি বা ছবির মধ্যে অবস্থান করে এবং আমাদের সকল দুঃখ গ্লানি মুছে দেন। ঈশ্বর নিরাকার,আমরা মূর্তির মাধ্যমে সাকার রূপের উপাসনা করি। এই মূর্তিতে আমরা ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে পারি যেমন ভাবে আপনি আপনার স্বর্গীয় পিতার ছবিতে আপনার পিতাকে উপলব্ধি করেন ।
রাজা তার ভুল বুঝতে পারে এবং হাত জোড় করে স্বামী বিবেকানন্দ এর কাছে তার ভুল স্বীকার করে।

শ্রীমদ্ভগবদগীতার রেফারেন্সঃঃ
——————————————

অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞেসা করেছিলেন, যে সাকার ও নিরাকারের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ?

শ্রীকৃষ্ণ উত্তরে বলেছিলেন,

ক্লেশোহ্ধিকতরস্তেষামব্যক্ত আসক্তচেতসাম।
অব্যক্তা হি গতিরদুঃখং দেহবদ্ভিরবাপ্যতে। (১২/৫)

অর্থ- যাদের মন ভগবানের অব্যক্ত নির্বিশেষ রূপের(নিরাকার রুপ) প্রতি আসক্ত তাদের ক্লেশ অধিকতর।কারন অব্যক্তের উপাসনার ফলে দেহধারী জীবের কেবল দুঃখই লাভ হয়।

সাধারন দেহধারী জীবের পক্ষে ধ্যানের মাধ্যমে ঈশ্বরের উপাসনা অধিক কঠিন। আমাদের পক্ষে কখনই ঈশ্বরের সুবিশাল অসীমরূপকে কল্পনা করা সম্ভবপর নয়। তাই অসীমতাকে আমরা সসীমতায় কল্পনা করি মূর্তির মাধ্যমে। তাইতো বিগ্রহসেবা প্রচলিত হয়েছে। মূর্তি বা বিগ্রহ কখনোই ঈশ্বর নন। তা ঈশ্বরের প্রতীক মাত্র। শুধুমাত্র মাটি/ পাথরের মূ্র্তি তৈরী করেই তাকে পূজা করা যায়না। শাস্ত্রানুযায়ী তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও চক্ষুদান করতে হয়। এই রীতির মাধ্যমে ভক্ত তার প্রভু কে মূর্তি বা বিগ্রহের মধ্যে আবির্ভূত হতে আহ্বান জানায়। প্রতিমা বিহীন নিরাকার ঈশ্বরের প্রার্থনায় মনঃসংযোগ করা কষ্টসাধ্য, আর প্রতিমা সামনে থাকলে মনে হয় ঈশ্বর আমার সামনেই অধিষ্ঠিত, আমি সরাসরি তার সেবা করছি।

যোঃ যোঃ যাং যাং তনুম্ ভক্তাঃ শ্রদ্ধয়াঅর্চিতুম্ ইচ্ছতি ।
তস্য তস্যাঅচলম্ শ্রদ্ধাম্ তাম্ এব বিদধামি অহম্ ।।৭/২১

অর্থ-পরমাত্মারুপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখন কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে আমি তাদের শ্রদ্ধানুসারে সেই সেই দেবতাদের প্রতি ভক্তি বিধান করি ।

সঃ তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্ত তস্য আরাধনম্ ঈহতে ।
লভতে চ ততঃ কামান ময়া এব বিহিতান হিতান (৭/২২)

অর্থ-সেই ভক্ত শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকে আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তুলাভ করে।

তাই এক কথায় বলা যায়, ঈশ্বরের পূজা করার জন্য প্রতিমা পূজার গুরুত্ব অত্যধিক।

—–ধন্যবাদ। জয় গীতা।



আমাদের ফেসবুক পেইজ