মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফরিদপুরে শ্রী নৃসিংহ সেবা সংঘের পরিচালিত ১ম গীতা স্কুল শ্রী নৃসিংহ সনাতনী বিদ্যাপীঠের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে“হাটহাজারী সনাতনী ক্রাশ এন্ড কনফেশন কমিউনিটি” গ্রুপের প্রথম পুণর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ যশোর সরকারি সিটি কলেজ শাখার নতুন কমিটি ঘোষনা সড়কে গাছ ফেলে সাংবাদিককে হত্যা, চার দিনেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ ‘উস্কানিমূলক’ পোস্ট না করার শর্তে জামিন পেয়েছে ঝুমন দাস দেবীগঞ্জে ঐতিহাসিক মন্দিরে চুরি ভারতে যোগীরাজ্যে অন্যরূপে ‘ABCD’, এ-তে অর্জুন, বি-তে বলরাম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে,সুজন মহন্তের ৭ বছর কারাদণ্ড চট্টগ্রামের রাউজানে নানান মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫দিন ব্যাপী রাস উৎসব ঝিওরী সুভাষ দত্তের বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার দিনব্যাপী শ্রী শ্রী সার্বজনীন জগদ্ধাত্রী পূজা

আমি তো কোনও দিন কল্পনা করিনি, তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে

Spread the love

অন্তর পাল আকাশ : সনাতন টিভি, চট্টগ্রাম।

‘আমাকে তোমার হাতে সিঁদুর পরাবে না? আমার হাত ধরে তোমার ঘরে নিয়ে যাবে না?’, প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে ফেসবুক পোস্টে এভাবেই নিজের কষ্ট আর আক্ষেপ তুলে ধরেছেন ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিজয় ধরের বাগদত্তা আঁখি। 

রবিবার (৯ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে নিজের বিয়ের নিমন্ত্রণের চিঠি পৌঁছাতে গিয়ে উপজেলার নাজিরহাট পৌর এলাকার নানুপুর-মাইজভান্ডার সড়কে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ হারান মোটরসাইকেল আরোহী বিজয় ধর (২৮)। এই দুর্ঘটনায় আহত হন তার বন্ধু রাজেশ ধর। বিজয় ধর ঘটনাস্থলে প্রাণ হারালেও আহত রাজেশ ধর এখন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিজয় ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ির রূপাল ধরের ছেলে।

পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিজয় ধরের বাড়িতে চলছে এখন চলছে শোকের মাতম। অথচ শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) ছিল তার বিয়ের অনুষ্ঠান। ধুমধামে চলছিল বিয়ের আয়োজন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সব আয়োজন নষ্ট করে দিলো। 

নিহত বিজয় ধরের বড় ভাই অজয় ধর সনাতন টিভিকে বলেন, ‘বিজয় ধরের বিয়ের তারিখ শুক্রবার ঠিক করা ছিল। মেয়ে তারই পূর্ব পরিচিত আমাদের এলাকার। তারা দু’জনের মধ্যে জানাশোনা ছিল। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের আয়োজন হয়। দুই পরিবারের সম্মতিতেই শুক্রবার (১৪)ই অক্টোবর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।’

এদিকে বিজয় ধরের একবন্ধু এস.টিভি কে বলেন, ‘বাড়ির পাশেই মাত্র ৪০-৫০ গজ দূরে মেয়ের বাড়ি। তাদের সঙ্গে চার-পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারই তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। বিয়ের দিনও ঠিক হয়। এরমধ্যে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সব পাল্টে গেলো।’

এদিকে বিজয় ধরকে হারিয়ে তার বাগদত্তার পাগল প্রায় অবস্থা। সোমবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সে লিখেছে, ‘বিজয় তুমি কি আমার জীবনের এতটুকু থাকার জন্য এসেছো, আমি তো তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারছি না। এতটুকু যদি থাকার কথা ছিল, তাহলে কেন আসছো আমার জীবনে… আমি যে সহ্য করতে পারছি না। আমি প্রতিদিন কার সঙ্গে কথা বলবো, কার সঙ্গে আমি সময় কাটাবো? তুমি ছাড়া যে আমার সব শূন্য… আমার শুধু এখন তোমাকেই দরকার। তুমি ছাড়া আমি কিছুই বুঝছি না। আমায় কেনো এত কষ্ট দিলে, আমি তো কোনও দিন কল্পনা করিনি, তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে… মরার আগে আমার কথা কি একটুও মনে ছিল না, আমার জন্য হলেও বেঁচে যেতে। আমি তোমাকে সুস্থ করে তুলতাম। আমাকে তোমার হাতে সিঁদুর পরাবে না? আমার হাত ধরে তোমার ঘরে নিয়ে নিয়ে যাবে না? তুমি আমাকে কয়দিন বলেছিলে-আমাদের অনেক দিনের ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে, তাহলে আজ কোথায় তুমি? আমাকেও নিয়ে চলো না তোমার কাছে, আমার একা একা ভালো লাগছে না। খুব কষ্ট হচ্ছে..’

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকালে মেবাইল ফোনে কথা হয় দুর্ঘটনায় নিহত বিজয় ধরের পিতা রূপাল ধরের সঙ্গে। তিনি সনাতন টিভি কে বলেন, ‘আমার তিন ছেলে। বড় ছেলে অজয় ধর, মেঝ ছেলে ছিল বিজয় ধর ও ছোট ছেলে হৃদয় ধর। শুক্রবার মেঝ ছেলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এ লক্ষ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন হয়। চলছিল বিয়ের দাওয়াত দেওয়ার কাজ। আমি দাওয়াত দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম পটিয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে। বিজয় তার বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আশপাশের এলাকায় নিমন্ত্রণ করছিলো। পরে পটিয়া থাকা অবস্থায় শুনলাম বিজয় অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। আমি এসে আর ছেলেকে পাইনি।’ তখন আর ছেলে বেঁচে নেই বলে আক্ষেপ করেন তিনি।  



আমাদের ফেসবুক পেইজ