রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটের সন্তোষ রবি দাস এর স্বপ্নের যাত্রা শুরু কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উপহার ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহারস্বরূপ অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ১ কোটি টাকা দান করলেন গৌতম গম্ভীর জে এম সেন ভবনকে যাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার জোর দাবী বগুড়া মাঝিড়া কালীমন্দির ভুমিদস্যুর কবল থেকে রক্ষা করার জন্য মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত স্বামীজী এক রেলস্টেশনে!! শীতলীপাত মন্দিরে মধ্যরাতে আটটি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা নড়াইলের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ীতে কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ বাগীশিক শ্রীমঙ্গল উপজেলা সন্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান হাজরা বর্তমান সময়ের এই ঘুনে ধরা সমাজকে পরিবর্তনের জন্য গীতা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই চসিক প্রশাসকের রোগমুক্তি কামনায় বাগীশিক এর বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত

ঐতিহাসিক জে এম সেন ভবনকে ১৮ জানুয়ারি মধ্যে যাদুঘর হিসেবে ঘোষণার দাবি অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি

জে এম সেন ভবনের সম্মুখে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন ভবনকে যে কোন মূল্যে রক্ষা করে বৃটিশ আমলের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবীদের স্মৃতি রক্ষার্থে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতা ও সুধীজন। তাঁরা ভবন দখল, ভাঙ্গচুরের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ঐতিহাসিক এ ভবন ভাঙার চক্রান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত দেশব্যাপি আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ ৯ জানুয়ারি, ২০২১ শনিবার সকালে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী পরিমল কান্তি চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত।

ভাষণদানকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাবউদ্দিন চৌধুরী গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেন, ঐতিহাসিক জে এম সেন ভবন বাংলা ও বাঙালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কোনভাবে এটিকে ভাঙ্গা যাবে না। পুরাকীর্তির মর্যাদা দিয়ে এটিকে সংরক্ষণ করে যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি দুঃখ করে বলেন, পুরাকীর্তি ঐতিহ্য একে একে ধ্বংসের পথে। নতুন প্রজন্মের সামনে অতীতের ইতিহাস তুলে ধরার জন্যে এসবের সংরক্ষণের  আবশ্যকীয়তা দেখা দিয়েছে। সাবেক মেয়র, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরউদ্দীন বলেন, অর্পিত সম্পত্তি কেনা বেচার কোন সুযোগ না থাকলেও কিভাবে ভূমিদস্যুরা তা কেনার দাবী তুলে? তিনি এসব জাল-জালিয়তিপূর্ণ দলিল যারা সৃজন করে আদালতকে ভ্রমে ফেলে ভুয়া আদেশ হাসিল করেছে তাদের এসব অপকর্মের তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তিদানের দাবী জানিয়েছেন।

জে এম সেন ভবন রক্ষা করে এতে যাদুঘর প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ব্যক্তিগতভাবে ও সাংগঠনিকভাবে সব ধরণের সহযোগীতার জন্যে উপস্থিত জনতাকে প্রতিশ্রুতি দেন। সমাবেশে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন ইতোমধ্যে জে এম সেন ভবন ভাঙার চক্রান্তের বিরোধীতা করে এতে যাদুঘর প্রতিষ্ঠার আন্দোলনরে প্রতি পূর্ণ সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির তপন চক্রবর্তী, জাসদের ইন্দু নন্দন দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা ডা: মাহফুজুর রহমান, শ্রমিক নেতা সফর আলী, আওয়ামীলীগ নেতা খোরশেদ আলম, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সচিব মোহাম্মদ ইউনুস,

ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. জিনবোধি ভিক্ষু, উত্তর জেলার সভাপতি অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, সাংবাদিক আলীউর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য এড. প্রদীপ চৌধুরী, ট্রাস্টি উত্তম শর্মা, মহানগর সহ-সভাপতি দীপংকর চৌধুরী কাজল, মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি এড. চন্দন তালুকদার, জেলার সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিলাল দেওয়ানজী, সুমন কান্তি দে, সুকান্ত দত্ত, রুমা কান্তি সিংহ, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ নাথ দেবু ও সাগর মিত্র, সহ-সম্পাদক বিশ^জিৎ পালিত, বিকাশ মজুমদার, দপ্তর সম্পাদক অনুপ রক্ষিত, মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. রুবেল পাল, বিপুল কান্তি দত্ত,

 

সুভাষ সরকার, সজল শীল, উত্তরের সদস্য সচিব রিমন মহুরী, চসিক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী পুলক খাস্তগীর, শৈবাল দাশ সুমন, রুমকি সেনগুপ্তা, কল্লোল সেন, সুগ্রীব মজুমদার দোলন, টিংকু চক্রবর্তী, যুব সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ দাশ, সিজার বড়ুয়া, অজিত কুমার শীল, এড. রাজীব দাশ, অধ্যাপক শিপুল দে, নূপুর ধর, কাজল দে, ডা: অঞ্জন কুমার দাশ, এড. অশোক কুমার দাশ, এড. অনুপম চক্রবর্তী, জুয়েল আইচ অর্ক, এড. যীশু কৃষ্ণ রক্ষিত, সজিব সিংহ রুবেল, কাজল সিংহ, স্বরূপ পাল, সিংচন ভৌমিক, বিকাশ কান্তি দাশ, সুজিত সরকার, গোপাল দাশ টিটু, রাসেল সরকার, লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, পার্থ সারথি, বিভু চক্রবর্তী, প্রকৌশলী অভিজিৎ দেব, সুমন চন্দ্র নাথ, অমিতাভ দাশ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ 

সমাবেশে এড. রানা দাশগুপ্ত বলেন, ভূমি দস্যুরা জনৈক মিলন সেনগুপ্তের কাছ থেকে জে এম সেন ভবন ও এর ভূমি ক্রয়ের দাবী করেছেন। অথচ সামাজিক গণমাধ্যমে সাংবাদিকের সাথে তার এক সাক্ষাতকার প্রচারিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন এ ভূমির মালিক তিনি নন। কারো কাছে জমি বিক্রীর কোন ধরণের দলিলে তিনি স্বাক্ষর করেন নি, নিরাপত্তাহীনথায়ও ভূগছেন। এড. দাশগুপ্ত প্রশ্ন রেখে বলেন, এহেন মূল্যবান জমি যদি কারো কাছে মিলন সেন বিক্রী করে থাকেন তা হলে গ্রামের কুঠিরে অনাহারে-অর্ধহারে তাঁর মানবতার জীবন যাপন করতে হয় কেন? তিনি এব্যাপারে প্রশাসনিক তদন্তের এবং মিলন সেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্যে সরকার ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।

তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ভূমিদস্যু’কে মুক্তিযোদ্ধ হিসেবে দাবীকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ব্যক্তিস্বার্থে ধ্বংস করতে পারেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত ঐতিহ্যসমৃদ্ধ জে এম সেনের বাড়ীটি রক্ষা করে আগামী ১৮ জানুয়ারীর মধ্যে এতে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার দাবী জানান। অন্যথায় এ দাবী বস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট, প্রয়োজনে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

গণজমায়েতে যেসব সংগঠন যোগ দেয় তার মধ্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটি সমূহ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর শাখা সহ বিভিন্ন ইউনিট, বাংলাদেশ হিন্দু ফাউন্ডেশন, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ, প্রবর্ত্তক সংঘ (বাংলাদেশ), বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্ট, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, শারদাঞ্জলী ফোরাম, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, সনাতন সংগঠন, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি, গোলপাহাড় শশ্মান কালী বাড়ী পরিচালনা কমিটি, জাগো হিন্দু, আইনজীবী বিজয়া সম্মিলনী পরিষদ- চট্টগ্রাম, হিন্দু ডক্টরস এসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম, ইসকন-প্রবর্ত্তক ও নন্দনকানন, সৎসঙ্গ
বিহার-চট্টগ্রাম, লোকনাথ সেবক সংঘ, উত্তর চট্টগ্রাম মৎসজীবী জলদাশ ফেডারেশন, স্বস্তিকা, আমাদের পূজো, জাগো অপরাজিত মৈত্রী সংঘ, সনাতন মঠ মন্দির সেবায়েত সংঘ, সনাতনী জাগরণ সংঘ, মাইনোরিটি ওয়ার্চ, বিশ্ব সনাতন ঐক্য, ভ্রাম্যমান গীতা প্রচার সংঘ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, হিন্দু সমাজ কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় গীতা পরিষদ, দক্ষিণ বুড়িশ্চর রামকৃষ্ণ সংঘ, সার্বজনীন শ্রীশ্রী

কৃষ্ণ মন্দির-ক্ষেতচর, সনাতন সম্প্রীতি ঐক্য পরিষদ, , বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, চট্টগ্রাম বৈদিক সংঘ, শ্রীশ্রী লোকনাথ ধাম-চাক্তাই।



আমাদের ফেসবুক পেইজ