রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একজন দুঃখীনি মায়ের গল্প কৃষ্ণকলি ইমু গ্রুফের শ্রীমদ্ভাগবদগীতা পাঠ ও ভজনগীতি প্রতিযোগীতা ২০২১ এর ফাইনাল রাউন্ড   অনুষ্ঠিত। এড.তপন কান্তি দাশের শুভ জন্মদিনে বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা বার্তা গীতাঞ্জলি মাতৃ সম্মিলনী এর মানবিক প্রয়াস কৃষ্ণকলি ইমু গ্রূপ’র শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ও ভজনগীতির ফাইনাল রাউন্ড ৩০শে এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় ধামরাইয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ -২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গর্ভবতী মায়েদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কিশোরগঞ্জ গুরু দয়াল সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রানেশ কুমার চৌধুরীর পরলোকগমন। সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির কোটা বণ্টনে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ধামরাইয়ে শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির কমিটির সদস্য অমিয় গোপাল বনিকের পরলোকগমন বোয়ালখালীতে সংগীতশিল্পী ও গীতাপাঠক বিধান দাসের গীতা পাঠের মাধ্যমে সূর্য মোহন দাসের ক্রিয়া ও গীতাপাঠ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের হামলার হুমকি

Spread the love

 

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিস্তিন্ন জনপদ টাকাটুকিয়া গ্রামের পপি ও চামেলী বর্মণ, কলেজ ও স্কুল ছাত্রী পড়ুয়া। তাদের পরিবার আবারো হামলাকারী বখাটেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। গত ১৪ এপ্রিল বাড়িঘরে এসে হামলা চালিয়ে আটজনকে আহত করে বখাটেরা। এ ঘটনায় মামলা হলে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিন্তু মামলা দুর্বল ভাবে হওয়ার কারণে দুই দিনের মাথায় তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের হুমকি দিচ্ছে পরিবারটিকে। উত্ত্যক্তকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ার কারনে আতঙ্কে আছে বর্মন পরিবারটি। ঘটে যাওয়া ঘটনাটি স্বীকার করেছে গ্রামবাসীও। শুকিয়ে যাওয়া বৌলাই নদীর পশ্চিম পারের টাকাটুকিয়া গ্রামে হিন্দু-মুসলিম পরিবারের যৌথ বসবাস। টাকাটুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে কয়েক শ বছর ধরে আদিনিবাসী হিসেবে বসবাস করছে পঞ্চাশোর্ধ্ব বাছিন্দ্র বর্মণের পরিবার।

তাঁর দুই ভাই সত্যেন্দ্র বর্মণ ও সঞ্চিত বর্মণকে নিয়ে তাঁদের একান্নবর্তী বর্মন পরিবার। গ্রামের সবাই এই নিরীহ পরিবারটিকে দরিদ্র হওয়ার কারনে স্নেহ করেন। তাদের গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, ঝরাজীর্ন টিনশেডের একটি ঘরে বর্মণ পরিবারের বসবাস। টাকার অভাবে মেরামত না করায় ঘরের পুরনো টিনের বেড়া ভেঙে যাচ্ছে। বাড়িটির পেছন ঘেঁষেই গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। এই পরিবারের তিন বোন স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। দুই বছর ধরে পাশের টুকেরগাঁও গ্রামের ফালু মিয়ার কয়েকজন নাতি ওই তিন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বর্মণরা অভিযুক্ত যুবকদের পরিবারকে বিষয়টি জানালেও তারা পাত্তা দেয়নি।

এতে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে ও বিভিন্ন সময়ে তিন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ও তাদের উদ্দেশে খারাপ কথা বলে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক মাস আগে গ্রাম্য সালিস ডাকা হয়। সেখানে শহিদ মিয়ার ছেলে রোহিত মিয়া, বিল্লাল মিয়ার ছেলে মোসা মিয়া, লাসি মিয়া, কালাম মিয়া, মুক্তার মিয়ার ছেলে কাশেম মিয়া, সিরাজ মিয়ার ছেলে মেজর মিয়া ও তাঁদের আত্মীয় পাভেল মিয়া দোষী প্রমাণিত হন। সালিসকারীরা বর্মণ পরিবারকে আইনের আশ্রয় না নিতে অনুরোধ করে উত্ত্যক্তকারীদের কান ধরে উঠবস করান। এতে ক্ষুব্ধ হয় অভিযুক্ত যুবক ও তাঁদের স্বজনরা। তারা সালিসের পর সত্যেন্দ্র বর্মণের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপকরণ জালগুলো পুড়িয়ে দেয়। খড়ের গাদায়ও আগুন দেয়। এ ছাড়া নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে বিল্লাল মিয়ার নেতৃত্বে তাঁর উত্ত্যক্তকারী তিন ছেলে ও ভাতিজাসহ আত্মীয়-স্বজন দেশি অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ বর্মণ পরিবারে হামলা চালায়।

ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে সঞ্চিত বর্মণ, দেবেন্দ্র বর্মণ, বাবলু বর্মণ, বাছিন্দ্র বর্মণ, বিউটি রানী বর্মণসহ পরিবারটির আটজনকে। কিন্তু অবশেষে মামলাটি নড়বড়ে হওয়ার কারনে জামিনে ছাড়া পেয়ে দরিদ্র বর্মন পরিবারটিকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এতে করে তারা বর্তমানে আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।



আমাদের ফেসবুক পেইজ