সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে অবসরপ্রাপ্ত কলেজে  শিক্ষক হত্যার ঘটনায় কেয়ারটেকার সহ ৪ জনকে আটক নড়াইলে অষ্টমী ও কুমারী পূজাঁ অনুষ্ঠিত বাগীশিক চট্রগ্রাম মহানগর সংসদ এর উদ্যােগে শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্য বস্ত্র বিতরণ, সেলাই মেশিন প্রদান ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ অনুষ্টিত নড়াইলের পল্লীতে হিন্দু কলেজ শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা! প্রিয় চট্টলাবাসীকে শারদীয়া দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রী রাজীব তালুকদার বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক)-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সংসদের উদ্যোগে অনাথদের নিয়ে শারদোৎসব পালিত বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট-চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক কমিটি অনুমোদিত বোয়ালমারীতে প্রতিমা ভাংচুর, গ্রেফতার নয়ন শেখ ও রাজু শেখ মৃণাল কান্তি বসু ও দিপক কান্তি বসুর পূর্বপুরুষরা জমিদার ছিলেন লাখাইয়ে পুজা উদযাপন পরিষদ কতৃক বস্তু বিতরণ

জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা নড়াইলের মীরা রাণী সরকার!!

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ যশোর উপশহর এলাকার এফ ব্লকে (বাসা নং-২০৩) তার স্বামীর বাড়ি। ২ বছর আগে স্বামী পশুপতি মারা গেলে সতীনের সন্তানদের কারণে ওই বাসা ছেড়ে চলে আসতে হয় মীরা রানীকে। তখন থেকে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পাইকড়া গ্রামে মেয়ে বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই থেকে মেয়ের বাড়িতেই থাকেন। মেয়ে কবিতা সরকার ও জামাই গৌতম সরকার সাধ্যমত তাঁর সেবা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন।

রোগাক্রান্ত মীরা রানীকে দেখতে গেলে জীবন স্মৃতির নানা কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একবার যশোরে রওশন সাহেব এর বাড়ী এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু’র মেয়ে শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি তাঁর মাথার চুল আঁচড়িয়ে দিয়েছিলেন পরম মমতার সাথে। বঙ্গবন্ধু মারা গেলে ২ দিন কিছুই খেতে পারেননি। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু ডেকে নিয়ে ১ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছিলেন। এমন নানা স্মৃতির কথা বলতে বলতে আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি।

চৌগাছা সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে তিনি যুদ্ধ করেন। সে যুদ্ধে তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী নিহত হন। তার বাড়ি মাগুরায় ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মেয়ের বাড়িতে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তার নিকট হতে বাড়ির অংশ লিখে নেয় সতীনের পুত্ররা। তার একমাত্র মেয়ে কবিতা রানী সরকারকে নড়াইলের পাইকড়া গ্রামে বিয়ে দেয়া হয়। মন চাইলেও স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার মত কোন পরিবেশ নেই। তাই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি পাইকড়া গ্রামে কাটাতে চান। তিনি কেবলমাত্র মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান। এছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা পাননি।

 

অর্থাভাবে ঠিকমত চিকিৎসা নিতে না পারার কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তার জামাই সেলুন ব্যবসায়ী গৌতম কুমার সরকার বলেন, অভাবের সংসারে শ্বাশুড়ির চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে কষ্ট হলেও শ্বাশুড়ির সেবা করার মধ্যে তিনি আনন্দ খুজে পান।

তাঁর মেয়ে কবিতা রানী সরকার দুঃখের সাথে বলেন, সন্তান হিসেবে মায়ের সুচিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। কিন্তু ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাদের কাছে নেই। এমন পরিস্থিতিতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা মায়ের জন্য সকলের আশির্বাদ ও সুস্থতা কামনা করেছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হলেও আজ জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা মীরা রাণী সরকার (৬৮)। তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় ঠিকমত চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি। মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ম-১১৪৭৭৬।



আমাদের ফেসবুক পেইজ