শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চসিক প্রশাসকের রোগমুক্তি কামনায় বাগীশিক এর বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত আজ মাস্টারদা সূর্যসেনের ৮৮তম ফাঁসি দিবস আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে বাকলিয়া সনাতনী পরিষদ এর মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত বাংলাদেশ হিন্দু ফাউন্ডেশন উদ্যোগে বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী’র ১১১তম জন্মদিবস উদযাপন চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয়তাবাদী হিন্দু ছাত্র ফোরামের বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসমাবেশ ঐতিহাসিক জে এম সেন ভবনকে ১৮ জানুয়ারি মধ্যে যাদুঘর হিসেবে ঘোষণার দাবি অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত ভবনে আঘাত মেনে নিবে না বাংলার জনগণ নিস্তব্ধ পথশিশু পরিবারের ৪র্থ বর্ষ প্রদার্পনে শীতবস্ত্র বিতরণ পাকিস্তানে মন্দিরে আগুন, প্রতিমা ভাঙচুর; আটক ২৬ দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মানবকল্যান ফোরাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক অজয় দত্ত

দীক্ষা কি? দীক্ষা গ্রহণ করার আবশ্যকতা কোথায়?


দীক্ষা সর্বকার্যে শুদ্ধিকারক। অদীক্ষিত কোন ব্যক্তি যদি আধ্যাত্মিকতার যেকোন কার্য করুক না কেন? তৎসমুদয়ের কোন মূল নেই। তাই প্রত্যেকে দীক্ষা গ্রহণ করা অবশ্যই উচিত। দীক্ষা ব্যতীত কোন ভক্তকে ভগবান নিজেও দর্শন দেন না তা শাস্ত্রে বিধিত আছে।

দীক্ষা কি?
দীয়ন্তে জ্ঞানমত্যন্তং ক্ষীয়তে পাপসঞ্চয়ঃ।
তস্মাদ্‌ দীক্ষেতি সা প্রোক্তা মুনির্ভিস্তত্ত্বদর্শিভিঃ।।
দিব্যজ্ঞানং যতো দদ্যাৎ কৃত্যা পাপস্য সংক্ষয়ম্‌।
তস্মাদীক্ষেতি সা প্রোক্তা মুনির্ভিস্তত্ত্ববেদিভিঃ।।
(রুদ্রযামল ও যোগিনী তন্ত্রে)

অনুবাদঃ যে কার্য পাপক্ষয় করিয়া দিব্য জ্ঞান প্রকাশ করে, তাহাই দীক্ষা। প্রকৃতপক্ষে দীক্ষার অর্থ বর্ণ বা শব্দ বিশেষ, শ্রবণ করা নহে। বর্ণ বা বর্ণগুলি শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্ম বলিয়া পরিকীর্তিত আছে। সেই শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্মই বর্ণ। সেই বর্ণই ভগবানের নাম। নাম এবং নামী অভেদ, কিছুই প্রভেদ নাই। এইভাবে যেই নাম বা মন্ত্র গ্রহণ করা হয় তাহাই দীক্ষা। যিনি নামে এবং মন্ত্র এ মন্ত্রের অভীষ্ট দেবতাকে এক ভাবেন, তিনি প্রকৃত দীক্ষিত। দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ করিলে শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্ম অভীষ্ট দেবতার না হয় এবং হৃদয়ে নিজ ইষ্ট দেবতার ভাব উদ্দীপন না হয়, তবে সেইরূপে মন্ত্র বা দীক্ষা গ্রহণ করিয়া দীক্ষা বা মন্ত্র গ্রহণ শব্দ প্রয়োগ না করাই শ্রেয়ঃ। দৃঢ় বিশ্বাস বা ভক্তিই মূল।

দীক্ষা গ্রহণ করার আবশ্যকতাঃ
অদীক্ষিতাং লোকানাং দোষং শৃনু বরাননে।
অন্নং বিষ্ঠা সমং তস্য জলং মূত্র সমং স্মৃতম্‌।
যৎ কৃতৎ তস্য শ্রাদ্ধং সর্বং যাতিহ্যধোগতিম্‌।।১
(তথাহি মৎস্যর্সূক্তে)

অর্থঃ অদীক্ষিত ব্যক্তি অন্ন বিষ্ঠার সমান, জল মূত্রতুল্য। তাহারা শ্রাদ্ধাদি কার্য যাহা কিছু করে, তাহা সমস্তই বৃথা।

ন দীক্ষিতস্য কার্যং স্যাৎ তপোভির্নিয়মব্রতৈ।
ন তীর্থ গমনে নাপি চ শরীর যন্ত্রণৈঃ।।২
অদীক্ষিতা যো কুর্বন্তি তপো জপ পূজাদিকাঃ।
ন ভবতি ক্রিয়া তেষাং শিলায়ামুপ্ত বীজবৎ।।৩

অর্থঃ দীক্ষা গ্রহণ না করিলে কোন কার্য করিবার অধিকার জন্মে না। সেই জন্য জপ, তপ, নিয়ম, ব্রত, তীর্থ, ভ্রমণ উপবাসাদি শারীরিক কষ্ট দ্বারা কোন ফল দর্শিবে না।

অদীক্ষিতোহপি মরণে রৌরবং নরকং ব্রজেৎ।
অদীক্ষিতস্য মরণে পিশাচত্বং ন মুঞ্চতি।।
অদীক্ষিত ব্যক্তিগণ মৃত যদি হয়।
রৌরব নরকে বাস জানিবে নিশ্চয়।।
স্কন্ধ পুরাণেতে তার আছয়ে বর্ণন।
মৃত্যু পরে হবে তার পিশাচে জনম।।
দীক্ষা মূলং জপং সর্বং দীক্ষা মূলং পরং তপঃ।
দীক্ষামাশ্রিত্য নিবসেৎ কৃত্রশ্রমে বসদ্‌।।
জপ, তপ, তন্ত্র, মন্ত্র, দীক্ষা মূল হয়।
.
দীক্ষা ভিন্ন সর্বকার্য হইবেক ক্ষয়।।



আমাদের ফেসবুক পেইজ