রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একজন দুঃখীনি মায়ের গল্প কৃষ্ণকলি ইমু গ্রুফের শ্রীমদ্ভাগবদগীতা পাঠ ও ভজনগীতি প্রতিযোগীতা ২০২১ এর ফাইনাল রাউন্ড   অনুষ্ঠিত। এড.তপন কান্তি দাশের শুভ জন্মদিনে বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা বার্তা গীতাঞ্জলি মাতৃ সম্মিলনী এর মানবিক প্রয়াস কৃষ্ণকলি ইমু গ্রূপ’র শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ও ভজনগীতির ফাইনাল রাউন্ড ৩০শে এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় ধামরাইয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ -২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গর্ভবতী মায়েদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কিশোরগঞ্জ গুরু দয়াল সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রানেশ কুমার চৌধুরীর পরলোকগমন। সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির কোটা বণ্টনে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ধামরাইয়ে শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির কমিটির সদস্য অমিয় গোপাল বনিকের পরলোকগমন বোয়ালখালীতে সংগীতশিল্পী ও গীতাপাঠক বিধান দাসের গীতা পাঠের মাধ্যমে সূর্য মোহন দাসের ক্রিয়া ও গীতাপাঠ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘু নির্যাতনে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতাতের দাবি ও পরিস্থিতি উত্তরণে ১১ দফা সুপারিশ

Spread the love

 

 নিখিল বৈদ্য সুবর্ণ- সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লায় ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু নির্যাতনে জড়িদের দ্রুত গ্রেফতারসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে রিসার্চ এন্ড এমপাওয়ারমেণ্ট অর্গানাইজেশন-আরইও এবং হিউম্যান রাইটস এলায়েন্স বাংলাদেশ। তারা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার আলোকে ১১ দফা সুপারিশে উত্থাপন করেছেন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গত বুধবার রাত ৮টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে তারা এই আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন রিসার্চ এন্ড এমপাওয়ারমেণ্ট অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর চন্দন সরকার। তিনি সহ গত ২৫ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলে ছিলেন হিউম্যান রাইটস এলায়েন্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুব হক,রিসার্চ এন্ড এমপাওয়ারমেণ্ট অর্গানাইজেশনের জেনারেল সেক্রেটারি রাজেশ নাহা, গায়ক ও মুক্তচিন্তা, সিলেটের সাধারন সম্পাদক বিমান তালুকদার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার আলোকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ১১ দফা সুপারিশে বলা হয়, ১.জাতিগত সংখ্যালঘু ও হিন্দু গ্রাম আক্রমণ ও লুটপাটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ওই ঘটনা রুখতে ব্যর্থ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ২.সব ধর্ম অবমাননা বন্ধ করতে হবে, সাথে সাথে ধর্মের নামে নিরাপরাধ মানুষের উপর হামলা বন্ধ এবং হেফাজতের হামলা্য ও নির্যাতনের পর নোয়াগাঁও সহ জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিশ্বাস ও আস্থায় চিড় ধরেছে, তাদের সেই বিশ্বাস ও মনোবল ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩.ঝুম্ন দাশ ও আপনের মা নিভারানী দাশের মায়ের মামলাটি থানায় এজাহার ভুক্ত না করায় তার উপর মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এই ধরণের মানবাধিকার লংঘনে জড়িত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৪.ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার বিষয়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং সেখানে প্রশাসনের লোক সহ লোকাল লিডারদের যুক্ত করতে হবে। ৫.কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরন প্রদান এবং নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬.যে সকল নারী ও শিশুরা এখনও ট্রমার মধ্যে আছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ৭.আক্রান্তদের যথাযথ ক্ষতি নিরূপণ করে সেই মোতাবেক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং যে সকল বাড়িঘর আক্রান্ত হয়েছে তা পুন:নির্মান করে দিতে হবে এবং দুর্গম ওই এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।

৮.জলমহলের এতিহ্য রক্ষা এবং হাওরের দেশীয় মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য রাস্ট্রীয় ভাবে হাওয়ের মাছের সংরক্ষণ এবং হাওয়ের সাথে সম্পর্কিতদের যুক্ত করতে হবে। ৯.জলমহল নিয়ে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর জুম্মন দাসেরা যে প্রশাসনের সর্বস্তরে চেষ্টা করার পরেও জলমহল নিয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায়, স্থানীয় মেম্বার আধিপত্য বিস্তার করে এবং দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য বিস্তার করার স্বার্থে ফেসবুক প্রপাগান্ডা নাটক সাজানো হয়। এই জলমহলের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে স্থানীয় ধর্মীয় জাতিগত সাংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত ও হাওরের ঐতিহ্য রক্ষা করে হাওর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ১০.নামবিহীন কেসের সুরাহা করতে হবে এবং নামবিহীন কেস দিয়ে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ১১.ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জীবন ধারণের জন্য কাজ করতে বাধাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষ ঝুম্মন দাসকে মুক্তি দিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে হবে। এছাড়াও মূল বক্তব্যে বলা হয়, ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় অবমাননার অজুহাতে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘরে হামলা ও আগুন লাগানোসহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি পরিচিত কৌশল যা শুরু হয়েছে ২০১২ সালে রামুর মাধ্যমে, তখন যদি ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে এত অত্যাচার দেখতে হতো না।

পূর্বে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার ধারাবাহিকতায় শাল্লায় সংখ্যালঘু নির্যাতন, হয়রানি ও মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন চাইলেই এ ঘটনা রদ করা যেত। কারণ ঘটনার আগের দিন স্থানীয়ভাবে তারা মিটিং মিছিল করেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন তা জানতো। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ধর্মীয় উম্মাদনা ছড়িয়ে এক শ্রেণীর মানুষ আপামর মানুষের অন্তরে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।রাজনৈতিক দলের মদদ ছাড়া এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বেড়ে ওঠা সম্ভব নয় দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সকল রাজনৈতিক দল ও সরকারের মধ্যে কিছু কিছু লোক যারা মদদ দেয়, তাদেরকে এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ভার্চুয়াল ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক সেলিম সামাদ, ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, ব্যরিস্টার তাপস কান্তি বল, জন্মাস্টমী উদযাপন পরিষদের প্রেসিডেন্ট গৌরাজ্ঞ দে, অরুনাংশ দত্ত, ডাঃ দেব প্রসাদ পাল, ভিকটিম ঝুম্মনের ভাই নুপুর দাস, কপিল কৃষ্ণ বাবু, অ্যাডভোকেট দেবাংশু দাস, রামানুজ দাস, বিজীত পাল, গৌতম ভট্টাচার্য, রাজেশ নাহা, সুবোধ, রাছেল, জিএইচআরডি’র চেয়ারম্যান শ্রদ্ধানন্দ শীতল এবং সাংবাদিকেরা। তারা সবাই অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি বিধানের কথা দাবি জানিয়েছেন।



আমাদের ফেসবুক পেইজ