রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একজন দুঃখীনি মায়ের গল্প কৃষ্ণকলি ইমু গ্রুফের শ্রীমদ্ভাগবদগীতা পাঠ ও ভজনগীতি প্রতিযোগীতা ২০২১ এর ফাইনাল রাউন্ড   অনুষ্ঠিত। এড.তপন কান্তি দাশের শুভ জন্মদিনে বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা বার্তা গীতাঞ্জলি মাতৃ সম্মিলনী এর মানবিক প্রয়াস কৃষ্ণকলি ইমু গ্রূপ’র শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ও ভজনগীতির ফাইনাল রাউন্ড ৩০শে এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় ধামরাইয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ -২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গর্ভবতী মায়েদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কিশোরগঞ্জ গুরু দয়াল সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রানেশ কুমার চৌধুরীর পরলোকগমন। সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির কোটা বণ্টনে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ধামরাইয়ে শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির কমিটির সদস্য অমিয় গোপাল বনিকের পরলোকগমন বোয়ালখালীতে সংগীতশিল্পী ও গীতাপাঠক বিধান দাসের গীতা পাঠের মাধ্যমে সূর্য মোহন দাসের ক্রিয়া ও গীতাপাঠ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

স্বামীজী এক রেলস্টেশনে!!

Spread the love
 
 
উজ্জ্বল রায়।।
 
স্বামীজী রাজস্থানের এক রেলস্টেশনে আছেন। সারাদিন তাঁর কাছে লোক আসছে। নানা প্রশ্ন তাদের। স্বামীজী সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। লোক আসার শেষ নেই, স্বামীজীরও ধর্মপ্রসঙ্গের বিরাম নেই। এত লোক আসছে কেউ কিন্তু একবারও খোঁজ করছে না স্বামীজীর খাওয়া হয়েছে কিনা। 
 
এই ভাবে পর পর তিনদিন সম্পূর্ণ অনাহারে থেকে স্বামীজী ধর্মপ্রসঙ্গ করে চলেছেন। জল পর্যন্ত খেতে পারেননি। তৃতীয়দিন রাত্রে সবাই চলে যাবার পর একটি গরীব লোক এসে তাঁকে জিঞ্জাসা করল, মহারাজ, আপনি তিনদিন তো অনবরত কথাই বলেছেন, জল পর্যন্ত খাননি। এতে আমার প্রাণে বড় ব্যথা লেগেছে। 
 
স্বামীজীর মনে হল স্বয়ং ভগবানই দীনবেশে এসেছেন। তিনি বললেন :’ তুমি আমায় কিছু খেতে দেবে? ‘
লোকটি জাতিতে চামার, সে বলল : ‘আমার প্রাণ তো তাই চায়, কিন্তু আমার তৈরী রুটি আপনাকে দিব কি করে? আঞ্জা হয় তো আমি আটা ডাল এনে দিই, আপনি ডাল-রুটি বানিয়ে নিন। ‘
 
স্বামীজী বললেন : ‘না, তোমার তৈরী রুটিই আমায় দাও, আমি তা -ই খাব। ‘ লোকটি শুনে ভয় পেল —রাজা যদি জানতে পারে যে সে চামার হয়েও সন্ন্যাসীকে রুটি তৈরী করে দিয়েছে তবে হয়তো তাকে শাস্তি পেতে হবে। তবুও সাধুসেবার প্রবল আগ্রহে নিজের বিপদ তুচ্ছ করেও স্বামীজীর জন্য রুটি তৈরী করে নিয়ে এল। তার দয়া দেখে স্বামীজীর চোখে জল এল, ভাবলেন :আমাদের দেশের কুঁড়েঘরে এরকম কত মানুষ বাস করে, যারা বাইরে দীন -দরিদ্র -অন্ত্যজ কিন্তু অন্তরে মহান। 
 
এদিকে স্টেশনের কয়েকজন ভদ্রলোকের নজরে পড়ল স্বামীজী চামারের হাত থেকে খাবার নিয়ে খাচ্ছেন। তারা এসে তাঁকে বলল : ‘আপনি যে নীচ ব্যক্তির ছোঁয়া খাবার খেলেন এটা কি ভাল হল। স্বামীজী উত্তর দিলেন : ‘তোমরা তো এতগুলো লোক আমাকে তিনদিন ধরে বকালে, কিন্তু আমি কিছু খেলাম কিনা তার কি খোঁজ নিয়েছিলে? 
অথচ এ ছোট লোক হল, আর নিজেরা ভদ্র বলে বড়াই করছ? ও যে মনুষ্যত্ব দেখিয়েছে, তাতে ও নীচ হল কি করে।



আমাদের ফেসবুক পেইজ