শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে গীতা দান কর্মসূচি বোয়ালখালী শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রক্ষচারী নবনির্মিত শ্রী মন্দিরের ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব উপলক্ষে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় মা কালীর ভক্তদের দীর্ঘ লাইন লামা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের বিজয়ী সভাপতি বাসু দাশ,সেক্রেটারী বিপুল নাথ গুইমারাতে বার্ষিক গীতা ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত রাউজান কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজে সনাতনী শিক্ষার্থীদের “শ্রীমদ্ভগবদগীতা যথাযথ” দান চকরিয়া সরকারি কলেজে ৫৬ বছর পর প্রথম বাণী অর্চ্চনা পরিষদ গঠন ও সরস্বতী পুজোর প্রস্তুতি চলছে মৌলভীবাজার জেলা সনাতনী বৈদিক বিদ্যালয়ের অনুমোদন কুড়িগ্রাম ফুলবাড়িতে অসহায় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ বাংলাদেশের নেত্রকোনার সন্তান নলিনীরঞ্জন সরকারের পৈত্রিক সম্পত্তিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার দাবি।।

স্বামীজী এক রেলস্টেশনে!!

Spread the love
 
 
উজ্জ্বল রায়।।
 
স্বামীজী রাজস্থানের এক রেলস্টেশনে আছেন। সারাদিন তাঁর কাছে লোক আসছে। নানা প্রশ্ন তাদের। স্বামীজী সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। লোক আসার শেষ নেই, স্বামীজীরও ধর্মপ্রসঙ্গের বিরাম নেই। এত লোক আসছে কেউ কিন্তু একবারও খোঁজ করছে না স্বামীজীর খাওয়া হয়েছে কিনা। 
 
এই ভাবে পর পর তিনদিন সম্পূর্ণ অনাহারে থেকে স্বামীজী ধর্মপ্রসঙ্গ করে চলেছেন। জল পর্যন্ত খেতে পারেননি। তৃতীয়দিন রাত্রে সবাই চলে যাবার পর একটি গরীব লোক এসে তাঁকে জিঞ্জাসা করল, মহারাজ, আপনি তিনদিন তো অনবরত কথাই বলেছেন, জল পর্যন্ত খাননি। এতে আমার প্রাণে বড় ব্যথা লেগেছে। 
 
স্বামীজীর মনে হল স্বয়ং ভগবানই দীনবেশে এসেছেন। তিনি বললেন :’ তুমি আমায় কিছু খেতে দেবে? ‘
লোকটি জাতিতে চামার, সে বলল : ‘আমার প্রাণ তো তাই চায়, কিন্তু আমার তৈরী রুটি আপনাকে দিব কি করে? আঞ্জা হয় তো আমি আটা ডাল এনে দিই, আপনি ডাল-রুটি বানিয়ে নিন। ‘
 
স্বামীজী বললেন : ‘না, তোমার তৈরী রুটিই আমায় দাও, আমি তা -ই খাব। ‘ লোকটি শুনে ভয় পেল —রাজা যদি জানতে পারে যে সে চামার হয়েও সন্ন্যাসীকে রুটি তৈরী করে দিয়েছে তবে হয়তো তাকে শাস্তি পেতে হবে। তবুও সাধুসেবার প্রবল আগ্রহে নিজের বিপদ তুচ্ছ করেও স্বামীজীর জন্য রুটি তৈরী করে নিয়ে এল। তার দয়া দেখে স্বামীজীর চোখে জল এল, ভাবলেন :আমাদের দেশের কুঁড়েঘরে এরকম কত মানুষ বাস করে, যারা বাইরে দীন -দরিদ্র -অন্ত্যজ কিন্তু অন্তরে মহান। 
 
এদিকে স্টেশনের কয়েকজন ভদ্রলোকের নজরে পড়ল স্বামীজী চামারের হাত থেকে খাবার নিয়ে খাচ্ছেন। তারা এসে তাঁকে বলল : ‘আপনি যে নীচ ব্যক্তির ছোঁয়া খাবার খেলেন এটা কি ভাল হল। স্বামীজী উত্তর দিলেন : ‘তোমরা তো এতগুলো লোক আমাকে তিনদিন ধরে বকালে, কিন্তু আমি কিছু খেলাম কিনা তার কি খোঁজ নিয়েছিলে? 
অথচ এ ছোট লোক হল, আর নিজেরা ভদ্র বলে বড়াই করছ? ও যে মনুষ্যত্ব দেখিয়েছে, তাতে ও নীচ হল কি করে।



আমাদের ফেসবুক পেইজ