মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফরিদপুরে শ্রী নৃসিংহ সেবা সংঘের পরিচালিত ১ম গীতা স্কুল শ্রী নৃসিংহ সনাতনী বিদ্যাপীঠের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে“হাটহাজারী সনাতনী ক্রাশ এন্ড কনফেশন কমিউনিটি” গ্রুপের প্রথম পুণর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ যশোর সরকারি সিটি কলেজ শাখার নতুন কমিটি ঘোষনা সড়কে গাছ ফেলে সাংবাদিককে হত্যা, চার দিনেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ ‘উস্কানিমূলক’ পোস্ট না করার শর্তে জামিন পেয়েছে ঝুমন দাস দেবীগঞ্জে ঐতিহাসিক মন্দিরে চুরি ভারতে যোগীরাজ্যে অন্যরূপে ‘ABCD’, এ-তে অর্জুন, বি-তে বলরাম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে,সুজন মহন্তের ৭ বছর কারাদণ্ড চট্টগ্রামের রাউজানে নানান মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫দিন ব্যাপী রাস উৎসব ঝিওরী সুভাষ দত্তের বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার দিনব্যাপী শ্রী শ্রী সার্বজনীন জগদ্ধাত্রী পূজা

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক

Spread the love

প্রকাশ দেব,

 
সফরের প্রথম দিনেই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত। চার দিনের সফরে রোববার তিনি ঢাকায় এসেছেন। ইন-পারসন বা সশরীরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ঐক্যপরিষদের নেতারা এখানকার ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবস্থা সম্পর্কে বাইডেন প্রশাসনের ওই প্রতিনিধিকে ব্রিফ করেন। রোববার পড়ন্ত বিকালের ওই বৈঠক বিষয়ে ঐক্যপরিষদ আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।  ঐক্যপরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বাইডেনের দূতকে জানান, ক্রমবর্ধমান সামপ্রদায়িকতা ও মৌলবাদী তৎপরতা বাংলাদেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অস্তিত্বের সংকটে নিক্ষেপ করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিস্থিতি তাদের শঙ্কাগ্রস্ত করে তুলছে। বিজ্ঞপ্তি মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা (ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম-আইআরএফ) বিষয়ক দূত (অ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ) বাংলাদেশের নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. পিটার হাসকে নিয়ে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর পল্টন টাওয়ারস্থ ঐক্যপরিষদ কার্যালয়ে পৌঁছান।
সেখানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ নেতৃবৃন্দ তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বাইডেনের বিশেষ দূত জানান আমি ও আমার পরিবার ভারতের বিহার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছি এবং নাগরিকত্ব পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিকে সকল নাগরিকের জন্য সমান রেখেছে। ধর্ম চর্চায় সবার সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করেছে। বিধায় আমি আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনীত হয়ে এ জায়গায় আসতে পেরেছি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সংখ্যালঘুদের অধিকার সমুন্নত রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সমাজের মনোজাগতিক বিষয়ের পরিবর্তন কেবল সরকারের একার নয়। ধর্মীয় সম্প্রদায়, জাতি-গোষ্ঠী এবং সুশীল সমাজকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। সারা বিশ্বে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশে দেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবহিত এবং যথাসম্ভব পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় চীনে মুসলমান নিগ্রহ ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন তিনি। এই অবস্থার অবসানে বিশ্বে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার বিকাশে মার্কিন প্রচেষ্টা চলমান থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ দূত। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ঐক্যপরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ঐক্যপরিষদের অন্যতম নেতা ঊষাতন তালুকদার এমপি, সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিও, দীপেন চ্যাটার্জি, অশোক বড়ুয়া, মনীন্দ্র কুমার নাথ, নির্মল চ্যাটার্জি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত তার চার দিনের বাংলাদেশ সফরে সরকারের মন্ত্রী-সচিব, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করবেন। আগামীকাল এবং পরশু তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, হোস্ট কমিউনিটি এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ২০শে এপ্রিল ঢাকায় ফিরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। বিশ্বের দেশে দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাজে উৎসাহ প্রদান এবং তদারকিতে জোর রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং এ সংক্রান্ত বিশেষ দূত তদারকির কাজটি করেন। তাছাড়া তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত হওয়া প্রথম কোনো ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান। ওয়াশিংটন সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত (অ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ) হওয়ার পর ভারতীয় উপমহাদেশে এটিই  প্রথম সফর। আর তিনি প্রথম এলেন মডারেট মুসলিম কান্ট্রি বাংলাদেশে।



আমাদের ফেসবুক পেইজ